ফয়েজ আলমের দুটি কবিতা

ধুলার সিংহাসন
ফয়েজ আলম
একফোঁটা উঁশের সমুদ্র পার হইতে দিন যায়।
বনজামের পাতায়, বাতাসে গানের আসর—
নিরাকের চানপশরে কখন শামিল হব!
তবু আশায় আশায়
কায়া ফেইলা ছায়ারে ধরতেছি মনে মনে,
পার হইতে চাইতেছি
চামড়া-গোশতের দেয়াল।
এখনো নাকে হালখাতার গন্ধ।
এক রতি মুথাঘাস,
তারেও সেজদা মানতেছি মোকামের পথ ভাইবা,
তার নিচে ধুলার সিংহাসন।
যেখানে দরদের বোঁটার থাইকা ঝইড়া পড়ে
হইলদা পাতার দল—
বখতিয়ার, সিরাজউদ্দৌলা,
গাজ্জালি, আইনস্টাইন, নিউটন।
আমার হাঁটার পুরানা পথে
ফয়েজ আলম
আমি দেখি না আমার হাঁটা পথের কোনখানে এখনো
মুথা লম্বা ঘাসের উপর
আসরের একলা রৌদ গড়ায়া যাইতেছে।
আম, শাল, শ্যাওড়ার গাঁয়ে ফিরত আসতেছে
ভিনদেশি লেঞ্জা হাঁসের স্বপ্ন,
আগুইল্লা শীতের উম।
এই মিছা দৃশ্যগুলারে নিয়া নিঃশব্দে মশকরা করে
একখান হইলদা পাতার পতন।
না দেখলেই সব দেখা মিছা হয়া যায় না।
বনজামের ডালে যে একটা পক্ষি ডাকতেছে
দেখার আড়ালে,
আমার মস্তকের গহীন কোটরে সেও সত্য।
যেসব দৃশ্য দেখার লোভে
আমি স্বপ্নের ভিত্রে ঘুইরা ফিইরা হাঁটি,
পুরানা পথ,
একটা করইয়ের তলের ঘাসের কাছে ধন্না দেই।
দেখি দুইটা তিলা ঢুপি দুনিয়ার অনেক উপরে,
শীল করইয়ের নিরালা ডালে বসা—
তারা উইড়া যাওনের পরেও
আমার মগজের আরশ মহল্লার কিছু নিচে
দুইজনে অবিরাম কথা কয়।
এও কোনো মিছা না।
অথচ সারাদিন সারারাইত
আমাদের খালি হাত,
শূন্য চোখ।
চাইরদিকে যতই হাতাই,
পানি ঘোলা করি,
আঁজলায় ভইরা উঠে
চেঙরা বয়সের সইন্ধ্যার মনখারাপ রঙ।
নতুন লেখা সবার আগে পড়ুন
নতুন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ও অন্যান্য সৃজনশীল লেখা প্রকাশের খবর পেতে আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।