সাহিত্য ও সংস্কৃতি
প্রবন্ধ · Site Administrator · 2026-10-13

গোর্কির মা ও একজন ফয়েজ আলম

মামুন আজাদ

বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ—বড় চাকরিজীবী, শিক্ষক এবং সমাজে সম্মানিত নাগরিক বলে গণ্য ব্যক্তিদের অনেকে—মনে করেন, ব্রিটিশরা না এলে আমরা আলোকিত হতাম না। লেখকের মতে, এই মনোভাব মানুষের মধ্যে একধরনের চেতনাগত দাসত্ব ও অন্তর্গত হীনম্মন্যতা তৈরি করে। এডওয়ার্ড সাঈদ তাঁর বিখ্যাত Orientalism গ্রন্থে জ্ঞানচর্চা ও বয়ানের মধ্য দিয়ে প্রাচ্যকে পাশ্চাত্যের চোখে সংজ্ঞায়িত করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।

রাশিয়ায় তখন উত্তাল সময়; অক্টোবর বিপ্লবের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই সময়, ১৯০৬ সালে, মাক্সিম গোর্কি লেখেন মা উপন্যাস। পাভেল ভ্লাসভ নামের এক যুবকের কাহিনি দিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত পাভেলের মা পেলাগেয়া নিলভনা হয়ে ওঠেন উপন্যাসের মূল চরিত্র। তাঁর পরোক্ষ কর্মতৎপরতার মধ্য দিয়ে বিপ্লবের চেতনা পৌঁছে যায় পাভেলের মতো বহু তরুণের কাছে; পাভেলের মা হয়ে ওঠেন সবার ‘মা’।

মাক্সিম গোর্কির Mother বইয়ের প্রচ্ছদ ও লেখক মামুন আজাদ
মাক্সিম গোর্কির Mother বইয়ের প্রচ্ছদ ও লেখক মামুন আজাদ।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে; স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা বেশি কঠিন—গত অর্ধশতকে আমরা তা বুঝেছি। লেখকের বক্তব্যে, প্রতিবেশী একটি দেশসহ আন্তর্জাতিক প্রভাবের মধ্যে মানসিক দাসত্বের জোয়াল আমাদের কাঁধে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে ছিল। এই চেতনাগত দাসত্ব বিশেষ কিছু ‘বয়ান’ বা ‘ন্যারেটিভ’-এর ওপর দাঁড়িয়েছিল। তাঁর মতে, ব্রিটিশ ও এদেশীয় কিছু লেখক-বুদ্ধিজীবী সুচতুরভাবে বাংলাদেশের মানুষের মনে কিছু বয়ানকে স্থির বিশ্বাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এই বয়ানের উদাহরণ হিসেবে লেখক বলেন, প্রথমে সংস্কৃত ভাষাকে বাংলা ভাষার ‘মা’ বলে প্রভুর আসনে বসানো হয়েছে; পরে সংস্কৃত ভাষার ধারক সনাতন ধর্মকে বাঙালির ধর্ম এবং বাঙালির ধর্মকে বাংলার সংস্কৃতি বলে প্রচার করে সাংস্কৃতিক আধিপত্য গড়ে তোলা হয়েছে। আরও প্রচলিত করা হয়েছে—এদেশের অধিকাংশ মুসলমান নিম্নশ্রেণির হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে মুসলমানদের অবদান সীমিত, ১৯৪৭ সালের ভারতভাগে শুধু জিন্নাহ দায়ী—এমন বক্তব্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, শহীদের সংখ্যা, আওয়ামী লীগের যুদ্ধকালীন ভূমিকা, শেখ মুজিব ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বয়ানগুলোকে প্রশ্নাতীত সত্য হিসেবে শেখানো হয়েছে—লেখকের এমন দাবি। এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা প্রতিবেশী দেশকে সমালোচনা করাকে রাষ্ট্রবিরোধিতা বলে দেখানো হতো বলেও তিনি লিখেছেন।

লেখকের মতে, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে প্রতিবেশী দেশের প্রত্যক্ষ মদদে এই মানসিক, চেতনাগত ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের নগ্ন রূপ দেখা গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার মিছিলে ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’ স্লোগান উচ্চারিত হয়। তবে এই জাগরণ এক দিনে বা ২১ দিনে তৈরি হয়নি; মানুষের লেখালেখি ও বক্তৃতা তরুণ সমাজে জাগরণের আভাস এঁকেছিল। তরুণেরা বুঝতে পেরেছে, কীভাবে তাদের মনোজগতে দাসত্বের বেড়ি পরানো হয়েছিল; তারা বই পড়েছে, পাঠচক্র করেছে এবং সংগঠিত হয়েছে—লেখক জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে এভাবেই দেখেছেন।

যেসব কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রাবন্ধিক ও বক্তা বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে মনোজাগতিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করার কাজে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে কবি ও প্রাবন্ধিক ফয়েজ আলম অন্যতম—লেখাটির মূল আলোচ্য তাঁর কাজ।

প্রাচ্যবাদ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য

লেখকের মতে, বাংলাদেশ তথা ভারতের উপন্যাস, নাটক ও সিনেমায় দাড়ি-টুপি পরা মুসলিমদের প্রায়ই মৌলবাদী, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বা খলচরিত্র হিসেবে দেখানো হয়। এডওয়ার্ড সাঈদের আলোচনার সূত্র ধরে তিনি বলেন, পাশ্চাত্যের চোখে এই ‘অপশক্তি’কে দমন করে ‘মানুষ’ করা তথাকথিত ‘অসাম্প্রদায়িক’ শক্তির মহান দায়িত্ব—এ যেন ‘হোয়াইট মেনস বার্ডেন’।

এডওয়ার্ড সাঈদের Orientalism বাংলায় প্রথম অনুবাদ করে ফয়েজ আলম ‘প্রাচ্যবাদ’ তত্ত্বের আলোচনার দ্বার উন্মোচন করেছেন—লেখক তাঁর ভূমিকা এভাবে বর্ণনা করেছেন। ফয়েজ আলমের ভাষার উপনিবেশ গ্রন্থে বাংলা ভাষার ওপর সংস্কৃতের অভিভাবকত্ব, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের দাবি কীভাবে দুইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রভাব বিস্তার করেছে, তা আলোচিত হয়েছে। গ্রন্থের ১৩ নম্বর পৃষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে লেখক বলেন, বাংলা সংস্কৃতের দুহিতা নয়; বাংলা প্রাকৃত ও পালি থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং ভাষার স্বাভাবিক বিকাশে সংস্কৃতসহ আরবি, ফারসি, তুর্কি, ইংরেজি ও অন্যান্য স্থানীয়-বিদেশি ভাষার সংমিশ্রণ ঘটেছে। তাঁর মতে, ফয়েজ আলম বাংলা ভাষাকে সংস্কৃতের কথিত দাসত্ব থেকে মুক্ত করার তাত্ত্বিক রূপরেখা দিয়েছেন এবং তরুণদের উদ্দীপ্ত করেছেন।

এডওয়ার্ড সাঈদের Covering Islam অনুবাদের প্রসঙ্গে লেখক সংবাদমাধ্যমের ভাষার পক্ষপাতের উদাহরণ দিয়েছেন: ফিলিস্তিনের হামাস ইসরায়েলে রকেট ছুড়লে সংবাদে ‘হামাস অ্যাটাক ইসরায়েল’ বলা হয়, অথচ ইসরায়েলের বিমান হামলাকে ‘ইসরায়েল প্রোটেক্ট হিমসেল্ফ’ বা ‘ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে’ বলে বর্ণনা করা হয়—এমন দ্বৈত ভাষ্য তিনি চিহ্নিত করেছেন।

লেখায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশে গত ১৭ বছরে ইসলাম পালনকারী ও সুন্নতি পোশাক পরা মানুষদের হয়রানি, গ্রেপ্তার, ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে ক্রসফায়ার, লাশ শনাক্তে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। লেখকের ব্যাখ্যায়, এর মাধ্যমে ইসলামকে সন্ত্রাসের আখড়া এবং হাসিনা সরকারকে সেই কথিত হুমকির পরিত্রাতা হিসেবে হাজির করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী একটি দেশের স্বার্থসিদ্ধি হয়।

উত্তর-উপনিবেশী মন ও বি-উপনিবেশায়ন

আটটি প্রবন্ধে সাজানো ফয়েজ আলমের উত্তর-উপনিবেশী মন গ্রন্থের প্রথম প্রবন্ধেও একই নাম। সেখানে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখক বলেন, উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর জ্ঞানজগৎ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবন ও দৈনন্দিন চর্চায় উপনিবেশী প্রথা-পদ্ধতির উপস্থিতি এখনো অব্যাহত। উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উত্তর-উপনিবেশী প্রতিরোধের সূচনা; রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন দেশগুলোতেও উপনিবেশী প্রভাবের বিরুদ্ধে সেই প্রতিরোধ চলছে। উপনিবেশের পর সমাজ ও সংস্কৃতিতে থেকে যাওয়া প্রভাব চিহ্নিত ও দূর করার মনোভঙ্গি ও কৌশলই উত্তর-উপনিবেশবাদ।

কোনো দেশেই উপনিবেশী ধ্যানধারণা রাতারাতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি; দীর্ঘ সময় ধরে তা মানুষের ভাবনার জগতে আশ্রয় নিয়ে বিশ্বাস, চর্চা ও কাজে ছড়িয়েছে। তাই প্রথমে চিন্তার জগতে ঢুকে সেখানকার উপনিবেশী বিন্যাস উল্টে দিতে ও নিষ্ক্রিয় করতে হবে। এই তত্ত্বের বড় কাজ হলো উপনিবেশকালে গড়ে ওঠা জ্ঞানভাণ্ডার খুলে তার ভেতরের রাজনীতি দেখানো: কীভাবে একতরফা ধারণার ভিত্তিতে উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীকে ‘অপর’ হিসেবে চিহ্নিত করে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের উৎকৃষ্ট এবং তাদের নিকৃষ্ট বলে দেখিয়েছে। শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষাবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বে রচিত বিপুল গ্রন্থের মধ্য দিয়ে ‘অপর’কে নিকৃষ্ট এবং সাম্রাজ্যের মানদণ্ডে কেন্দ্র-প্রান্তের ধারণা তৈরি করা হয়েছে—ফয়েজ আলমের বক্তব্যের সারমর্ম লেখক এভাবে তুলে ধরেছেন।

এডওয়ার্ড সাঈদ ও ফ্রাঞ্জ ফানোর মতো লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে ফয়েজ আলম উপনিবেশের স্বরূপ উদ্ঘাটন করেছেন এবং বি-উপনিবেশায়নের ধারণাও দিয়েছেন। উপনিবেশ স্বাধীন হওয়ার পরও স্বাধীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে উপনিবেশক সংস্কৃতির প্রভাব থাকে; সেই প্রভাব কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়াই বি-উপনিবেশায়ন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার পর সাংস্কৃতিক ও ভাবগত আধিপত্যের অসম উপস্থিতি ঝেড়ে ফেলতে আত্ম-উদ্বোধন ও প্রতিরোধ দরকার; এর শুরু সাংস্কৃতিক ক্রিয়াশীলতা এবং বোধ ও ভাবের সংগ্রামে—লেখায় উদ্ধৃত বক্তব্যের সারকথা এটি।

উত্তর-উপনিবেশবাদ ও উত্তরাধুনিকতা প্রবন্ধে ফয়েজ আলম ইউরোকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক চিন্তার ধারা উন্মোচন করে বলেছেন, পশ্চিমের মানুষের তৈরি চোখ দিয়ে দেখার অভ্যাস বন্ধ করে নিজেদের ঐতিহ্যের আলোকে নিজস্ব দৃষ্টি ও দৃষ্টিকোণ তৈরি করাই মূল কথা।

ইতিহাসচর্চা, বুদ্ধিজীবী ও ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ

বুদ্ধিজীবী ও তার দায়ভার প্রবন্ধে ফয়েজ আলম বলেছেন, হতদরিদ্র দেশে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে রাজনীতির অর্থ অনেক সময় সরকার গঠনের লক্ষ্যে দলবাজি, অপপ্রচার ও ভোটের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ। এদেশের প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিজীবীর কর্তব্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে মানবিক মূল্যবোধের ব্যত্যয় ঘটলে বুদ্ধিজীবী উদ্বিগ্ন হবেন এবং মানুষের ওপর ক্ষমতার পীড়ন দূর করার তাগিদ অনুভব করবেন। এই প্রবণতা এক অর্থে বুদ্ধিজীবীর ‘চেতনাগত অভিশাপ’, যা তাঁকে জীবনব্যাপী সংঘাত-সংগ্রামে জড়িয়ে রাখে।

সাম্রাজ্যের দৃষ্টিতে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ: কয়েকটি উপেক্ষিত দিক প্রবন্ধকে লেখক বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার উল্লেখযোগ্য মাইলফলক বলেছেন। তাঁর মতে, ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে কংগ্রেসকেন্দ্রিক একটি বিশেষ শ্রেণিকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার একমাত্র ধারক-বাহক মনে করার বয়ানকে ফয়েজ আলম প্রশ্ন করেছেন। ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের দখল মুসলমানদের কাছ থেকে নিয়েছিল বলে ইংরেজ ইতিহাসকারেরা মুসলমানদের হেয় করেছেন এবং দেশীয় কিছু ব্রাহ্মণ্যবাদী লেখক তাঁদের সহায়তা করেছেন—এমন যুক্তি লেখায় আছে। স্বনামধন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে দুরাচার এবং ইংরেজদের রক্ষাকর্তা হিসেবে লিখেছেন বলে লেখক উল্লেখ করেন।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নথিতে ফকির মজনু শাহ, দুদু শাহ ও তিতুমীরকে ডাকাত, লুটেরা বা মৌলবাদী হিসেবে বর্ণনা করার প্রবণতার বিপরীতে তাঁদের দেশপ্রেম ও বীরত্বের ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। লেখকের মতে, এর ধারাবাহিকতায় শের আলীর ইতিহাসও উপেক্ষিত; অথচ বঙ্গভঙ্গবিরোধী ক্ষুদিরামের বিদায়ে ‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ গাওয়া হলেও আন্দামানের কারাগারে মুসলিম বন্দীদের আত্মত্যাগ যথেষ্ট স্মরণ করা হয় না।

মিশেল ফুকো প্রবন্ধে ফুকোর তত্ত্বের আলোকে ফয়েজ আলম শেখ হাসিনার ক্ষমতার কাঠামো বিশ্লেষণ করেছেন বলে লেখক জানান। এনলাইটেনমেন্টের মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও তার ফলে সকল ব্যক্তির উত্থানের দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ফুকোর প্রশ্নের সঙ্গে ফয়েজ আলম স্বাধীনতার চেতনা ও বাঙালিয়ানার বয়ান ব্যবহার করে ক্ষমতা বিশ্লেষণ করেছেন। লেখকের বক্তব্যে, ইংরেজদের সহযোগী দেশীয় লেখকদের রচনায় ফকির মজনু শাহ ও তাঁর অনুসারীদের ঘৃণ্য চরিত্রে উপস্থাপনের বিষয়টিও সেই আলোচনার অংশ।

এ প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি জাগগান বা লোককবিতার কথা এসেছে। পঞ্চানন দাস নামের এক অজ্ঞাত বা কল্পিত কবির রচনা বলে উল্লেখিত কবিতাটি রংপুর সাহিত্য পরিষদ পত্রিকায় বাংলা ১৩১৭ (১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ) সালে প্রকাশিত হয়েছিল বলে লেখায় বলা হয়েছে। কবিতার ভাষ্যে মজনু ফকির ও তাঁর অনুসারীরা বাংলা ধ্বংস করতে এসে বাড়িঘর লুট, গ্রাম জ্বালানো ও নারীদের ওপর নির্যাতন চালাতেন; তাঁকে নির্দয় তস্কর হিসেবে দেখানো হয়েছে। নির্বাচিত পঙ্‌ক্তিগুলো:

শুন সবে একভাবে নোতন রচনা। বাংগালা নাশের হেতু মজনু বারানা।।
কালান্তক জম বেটা কে বলে ফকির। যার ভয়ে রাজা কাঁপে প্রজা নহে স্থির।।
আসামী ধরতে ফকির যায় পাড়া পাড়া।। ফকির আইল বলি গ্রামে পৈল হুড়া।।
গাছ্যুয়া ব্যাপারী পালায় গাছে ছাড়া গুড়।। নারী লোকে না বান্ধে চুল না অড়ে কাপড়।।
সর্বস্ব ঘরে থুইয়া পাথারে দেয় লড়।। তারা বলে ঈশ্বর এহি করুক।
মজনু গোলামের বেটা শীঘ্র মরুক।।

ফয়েজ আলম এই বয়ান ভেঙে উপমহাদেশের বিস্মৃত ইতিহাস সামনে এনেছেন—লেখকের মূল্যায়ন এমনই।

জ্যাক দেরিদা প্রসঙ্গে: ভাবমূর্তি ও পাঠ প্রবন্ধে ফয়েজ আলম দেরিদার কাজ সম্পর্কে বলেছেন, তিনি পশ্চিমের জ্ঞানভাষ্যের গ্রন্থি খুলে তার অন্তঃসারশূন্যতা দেখিয়েছেন এবং পশ্চিমের দার্শনিক ঐতিহ্যের মাতব্বরি নাড়িয়ে দিয়েছেন—লেখক এই মূল্যায়ন উদ্ধৃত করেন।

বাঙালির ইতিহাসচর্চার পথের কাঁটা

বুদ্ধিজীবী, তার দায় ও বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব গ্রন্থের ভূমিকায় ফয়েজ আলম লিখেছেন, প্রায় দুইশ বছরের উপনিবেশী শাসন ও শোষণ বাঙালির জাতিগত সত্তায় এমন ক্ষত তৈরি করেছে, যার প্রভাব সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে এখনো রয়েছে। উপনিবেশী শাসনে নির্যাতিত দেশগুলোতে গণতন্ত্রের নামে রাজনৈতিক নৈরাজ্য, আর্থসামাজিক শোষণ-নির্যাতন ও নয়া-উপনিবেশী আগ্রাসনের শিকড় তিনি উপনিবেশী শাসনের পরিপ্রেক্ষিতে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।

গ্রন্থে ছয়টি প্রবন্ধ রয়েছে: ১. ‘ভাষা আর সংস্কৃতির ক্ষমতা: ক্ষুদ্র জাতিগুলোর অবস্থান’; ২. ‘ইতিহাসের দর্শন, উপনিবেশের বাসনা’; ৩. ‘বুদ্ধিজীবী, তার দায় ও বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব’; ৪. ‘বাংলা ভাষা বিষয়ে’; ৫. ‘উত্তর-উপনিবেশী কবিতা: একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা’; ৬. ‘আন্তোনিও গ্রামসি: সিভিল সোসাইটি প্রসঙ্গে’।

‘ভাষা আর সংস্কৃতির ক্ষমতা: ক্ষুদ্র জাতিগুলোর অবস্থান’ প্রবন্ধে ফয়েজ আলম ভাষাতাত্ত্বিক সস্যুরের বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে বলেন, ভাষার ব্যবহার বিচিত্র; প্রবাদ, রূপক ও অলংকারের মধ্যে কোনো জাতির অহমিকা—এমনকি মিথ্যা অহমিকা—এবং অন্য জাতির প্রতি ঘৃণাও জমা থাকতে পারে। ‘ঘাড়মোটা’ শব্দটির একটি বিতর্কিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, শব্দটি আর্যভাষা ব্যবহারকারীদের তৈরি, এবং এদেশের আদিবাসিন্দা ভেড্ডিড বা আদি-অস্ট্রেলীয় মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে হেয় করার ধারণা থেকে চালু হয়ে থাকতে পারে। লেখক এই ব্যাখ্যাকে ফয়েজ আলমের মত হিসেবে তুলে ধরেছেন; এটি প্রতিষ্ঠিত ভাষাতাত্ত্বিক সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেননি।

ভাষার আগ্রাসন জ্ঞানচর্চার বইয়ের মধ্য দিয়েও আসে—এমন যুক্তিতে লেখক ব্রিটিশ উপনিবেশের উদাহরণ দিয়েছেন। ইংরেজি শিক্ষা ও বইয়ের প্রসারে ইংরেজ জাতির ইতিহাস, সাহিত্য, শিল্পকলা, দর্শন ও গণিতের বই পড়া শুরু হলে সেগুলোর মধ্যে ইংরেজদের শ্রেষ্ঠ এবং ভারতীয়দের কুসংস্কারাচ্ছন্ন, পশ্চাৎপদ, অলস ও অদক্ষ দেখানোর ধারণা ছড়ায়। ভারতীয়দের উন্নত হতে ইংরেজদের কাছ থেকে শিখতে হবে—এমন ধারণায় তারা নিজেদের হীন ভাবতে এবং ইংরেজি জ্ঞান-সংস্কৃতিকে আরাধ্য করতে শুরু করে। লেখকের মতে, ইংরেজি ভাষার প্রবেশের মধ্য দিয়ে মনোজগতে আধিপত্য গড়ে ওঠে, যা সামগ্রিক আগ্রাসনের পরিবেশ তৈরি করে।

‘ইতিহাসের দর্শন, উপনিবেশের বাসনা’ প্রবন্ধে উপনিবেশক শাসন প্রতিষ্ঠার পর প্রজাদের প্রতিপালক, শিক্ষক ও পথপ্রদর্শকের আসন দখল করে বলে আলোচনা করা হয়েছে। ‘সত্য ইতিহাস’ ও ‘বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস’ বলে কেবল শাসকের লেখা ইতিহাসকে সত্য এবং অন্য সব বয়ানকে মিথ্যা, কিংবদন্তি বা গাঁজাখুরি বলে প্রচারের সমালোচনা রয়েছে।

বাঙালির ইতিহাস চর্চার পথের কাঁটা বইয়ের প্রচ্ছদ — ফয়েজ আলম
ফয়েজ আলমের বাঙালির ইতিহাস চর্চার পথের কাঁটা।

বাঙালির ইতিহাস চর্চার পথের কাঁটা ফয়েজ আলমের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর একটি বলে লেখক মনে করেন। দেরিদার কাঠামোবাদের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের ইতিহাস কীভাবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ছাঁচে আবদ্ধ হয়েছে, গ্রন্থটিতে তা পর্যালোচনা করা হয়েছে—এমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

গ্রন্থের ভূমিকায় ফয়েজ আলম লিখেছেন, উনিশ শতকের কলকাতায় অল্পসংখ্যক ব্রাহ্মণ্যবাদী লেখক-বুদ্ধিজীবীর নেতৃত্বে যে হিন্দুত্ববাদী পুনর্জাগরণ হয়, তার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সাধারণ বাঙালি হিন্দু, মুসলমান ও বৌদ্ধের সম্পর্ক ছিল না। তবু সংখ্যালঘু লেখকগোষ্ঠী ধর্মীয় পুরাণ ও লোককাহিনির গল্পকে ইতিহাস হিসেবে সাধারণ মানুষের জগতে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে; পরবর্তী তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা যাচাই না করেই সেই বয়ান পুনরুৎপাদন করেছেন। লেখকের উদ্ধৃতিতে, এই সাম্প্রদায়িক আবেগপ্রসূত বয়ানগুলো ইতিহাসের অংশ হয়ে থেকে যৌথ সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনীশক্তিকে ক্ষয় করছে।

গ্রন্থের ১৮ নম্বর পৃষ্ঠার আলোচনায় ফয়েজ আলমের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখক বলেন, ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজরা সহযোগী হিসেবে তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত তথাকথিত উঁচু জাতের হিন্দুদের বেছে নেয়। মুসলিম প্রশাসক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ইংরেজদের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর দ্রুত খাপ খাইয়ে নেয়; এতে অর্থবিত্ত অর্জনের সুযোগ হয় এবং মুসলিম শাসনামলে জমা হওয়া ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ মেলে। কৃতজ্ঞতার ভাষা কখনো শর্তহীন গোলামির ভাষা হয়ে ওঠে—এ যুক্তির উদাহরণ হিসেবে রামমোহন রায়ের নামে একটি আবেদন উদ্ধৃত হয়েছে। উদ্ধৃতির শেষে গ্রন্থপঞ্জির তথ্য দেওয়া আছে: Rammohan Roy, ১৮৮৫, পৃষ্ঠা ৪৪০।

“আমরা ইংরেজদের বিজেতা মনে করি না, মনে করি আমাদের বাঁচাইনেওয়ালা। আপনারেও আমরা কেবল রাজা ভাবি না, আমাদের বাঁচাইনেওয়ালা আর বাপের মতো দেখি।”

এই ভাষার দিকে খেয়াল দিয়ে লেখক প্রশ্ন তোলেন: ‘ইংরেজদের বিজেতা মনে করি না’ এবং ‘আমাদের বাঁচাইনেওয়ালা আর বাপের মতো দেখি’—এমন বক্তব্যে স্বার্থের প্রশ্নে আত্মসম্মান বা জাতিগত সম্মান যেন গুরুত্ব পায় না। তাঁর মতে, এভাবে উপনিবেশক ইংরেজদের উদ্দেশ্য এবং তাদের সহযোগী ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর স্বার্থ এক জায়গায় মিলে যায়।

লেখকের ব্যাখ্যায়, ব্রিটিশদের বদান্যতায় এক শ্রেণির ব্রাহ্মণ্যবাদী মুসলমানদের খাটো করে, নিজেদের ধর্মের পুরাণভিত্তিক কল্পিত ইতিহাস রচনা করে এবং ইংরেজ প্রভুদের উচ্চাসনে বসিয়ে এদেশের মানুষকে নৈতিকভাবে দুর্বল করেছে। বাঙালিকে মিশ্র জাতি বলা হয়—এর বিপরীতে তিনি Y-DNA হ্যাপলোগ্রুপ-সংক্রান্ত দুটি গবেষণার সংখ্যা উল্লেখ করেন: বাংলাদেশের মানুষের ক্ষেত্রে নয়টি এবং ভারতের ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রে বারোটি। সরবরাহ করা পাঠে গবেষক-নাম ও উদ্ধৃতির বানান/সংখ্যায় অসঙ্গতি আছে; তাই এগুলোকে যাচাইকৃত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নয়, মূল লেখায় উত্থাপিত দাবি হিসেবে রাখা হলো। লেখকের উপসংহার, এই আলোচনায় তরুণেরা উপলব্ধি করেছে কীভাবে ইতিহাস বিকৃত করে তাদের হীনম্মন্যতায় ডুবিয়ে রাখা হয়েছে।

‘লাল সালু’, মজিদ ও সাহিত্যিক ছাঁচ

কবি ফয়েজ আলমের সাথে আলাপ নামের সাক্ষাৎকারগ্রন্থটি কবি আসমা সুলতানা শাপলা নিয়েছেন। লেখকের মতে, সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রসঙ্গ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লাল সালু ও মজিদ চরিত্র নিয়ে ফয়েজ আলমের পাঠ। ফয়েজ আলম বলেছেন, ওয়ালীউল্লাহ মজিদকে চারপাশের বাস্তবতা-বর্জিত এক নিঃসঙ্গ চরিত্র হিসেবে নির্মাণ করেছেন। ১৯৪৮ সালে লেখা উপন্যাসটির পটভূমি তিরিশ-চল্লিশের দশক। তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বড় কারণ ছিল জমিদার, তালুকদার, জোতদার, সুদখোর মহাজন ও সমাজের প্রতিপত্তিশালী মানুষের শোষণ-নিপীড়ন; কিন্তু লাল সালু-তে এরা নেই, মানুষের সর্বনাশের একমাত্র কারণ যেন ভুয়া পীর মজিদ।

শোষক, রাজনীতিবিদ, জমিদার-তালুকদার-জোতদার ও সুদখোর মহাজনদের নিয়ে গড়া গ্রামীণ সমাজে মজিদকে দাঁড় করালে সে ‘পেটি শয়তান’ হতো—ফয়েজ আলমের বক্তব্যের সারমর্ম এটাই। কিন্তু উপন্যাসে রাজনীতিবিদদের দৌরাত্ম্য ও জমিদার-মহাজনদের শোষণ অনুপস্থিত; আছে শুধু ধর্মব্যবসায়ী মজিদের নির্যাতন। ফলে পাঠক অসচেতনভাবে সমাজের যাবতীয় দুর্ভোগের উৎস মজিদকে ভাবতে পারেন; পেটি শয়তান মজিদ হয়ে ওঠে বিরাট শয়তান। তাঁর অবস্থানের কারণে পাঠকের ক্ষোভ মজিদের ভণ্ডামি থেকে পীরালি, এমনকি ইসলাম ধর্মের দিকেও গড়াতে পারে। এভাবে মজিদ বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের পীরগোষ্ঠী সম্পর্কে একটি ছাঁচ হয়ে ওঠে—ওয়ালীউল্লাহ মজিদ-চরিত্রের মাধ্যমে সেই ছাঁচ ঢালাই করে দিয়েছেন বলে ফয়েজ আলমের সমালোচনা।

একটি নমুনা বা ছাঁচকে কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর সাধারণ স্বভাব হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার কৌশল সাংস্কৃতিক আধিপত্য কায়েমে ব্যবহৃত হয়—লেখক এমন যুক্তি দেন। বাঙালি অলস, মিথ্যুক বা ভীরু—এ ধরনের ধারণা বিশেষ এক-দুটি চরিত্রের ছাঁচ থেকে চালু হয়ে থাকতে পারে। পরম্পরায় চলতে থাকা এসব ধারণা জনগোষ্ঠীর মধ্যে হীনম্মন্যতা ও আত্মগ্লানি তৈরি করে এবং মানুষকে নিজের ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষের অর্জনের প্রতি ধিক্কার দিতে শেখায়। তাই ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাসের প্রশংসার পাশাপাশি মজিদ-ছাঁচের প্রভাবও বিবেচনা করা দরকার বলে লেখক মনে করেন। তাঁর মতে, অনুকরণপ্রিয় লেখকেরা সেই ছাঁচ থেকে ডজন ডজন মজিদ তৈরি করে নিজেদের সমাজের বিরুদ্ধেই দাঁড় করিয়েছেন।

লেখকের আরও বক্তব্য, স্বাধীনতার পর উপন্যাস, গল্প, কবিতা, নাটক ও সিনেমায় দাড়ি-টুপি পরা মানুষকে খলচরিত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে নামাজপড়া মুসলমানদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সমাজমনস্তত্ত্বে প্রবেশ করেছে। এই মনস্তাত্ত্বিক ধারণাকে পুঁজি করে শেখ হাসিনা কল্পিত ‘মৌলবাদী’ বা ইসলামোফোবিয়ার বয়ান তৈরি করেছেন এবং নিজেকে রক্ষাকর্তা হিসেবে হাজির করেছেন—লেখক এমন রাজনৈতিক অভিযোগ তুলেছেন; কথিত প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেছেন।

কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক ফয়েজ আলমের লেখালেখি, সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য তরুণদের কাছে ‘ক্রিটিকাল চিন্তাধারা’ সহজ করে বোঝাতে সাহায্য করে—লেখকের মূল্যায়ন এমন। তাঁর মতে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সাংস্কৃতিক আধিপত্য ভেঙে তরুণ সমাজ ধীরে ধীরে ‘জুলাই ২৪’-এর চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে প্রস্তুত হয়েছে। ফয়েজ আলম ‘জুলাই ২৪’-এর এক অনন্য অনুঘটক; তিনি নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়া যেতেই পারে।

তথ্যসূত্র

  1. বুদ্ধিজীবী, তার দায় ও বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব — ফয়েজ আলম।
  2. ভাষার উপনিবেশ — ফয়েজ আলম।
  3. উত্তর-উপনিবেশী মন — ফয়েজ আলম।
  4. উত্তর-উপনিবেশী তাত্ত্বিক কবি ফয়েজ আলমের সাথে আলাপ — আসমা সুলতানা শাপলা।
  5. কাভারিং ইসলাম (মূল: এডওয়ার্ড সাঈদ), অনুবাদ: ফয়েজ আলম।
  6. অরিয়েন্টালিজম (মূল: এডওয়ার্ড সাঈদ), অনুবাদ: ফয়েজ আলম।

দ্রষ্টব্য: সরবরাহ করা পাঠে কয়েকটি উদ্ধৃতি ও গবেষণাসূত্রের বানান/বিবরণ OCR-এ বিকৃত বা পরস্পরবিরোধী ছিল। পাঠযোগ্য অংশ বিশ্বস্তভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে; অনিশ্চিত তথ্য যাচাইযোগ্য তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হবে।

এখনও কোনো প্রকাশিত মন্তব্য নেই।