পোস্টমর্টেম
মশিউর রহমান
--ডাক্তার বাবু এছব হামি কী দেখছে!
--কী দেখছিস তুই? বিরক্ত হয়ে বললেন ডাক্তার বাবু। এরমধ্যে পকেট থেকে একটা ময়লা রুমাল বের করে নাক চেপে ধরেছে সিবু । নাক চেপে ধরেই নাকি সুরে বললো, -গু? কীসের গু? কোথায় থেকে আসলো গু? ডাক্তার সাহেব কিছুটা বিরক্তি আর কিছুটা অবিশ্বাস্য চোখে তাকালো সিবু ডোমের দিকে ।
--আজ্ঞে মগজে বাবু-লাশের মগজ ভর্তি গু আছে! বলেই সে পাশে রাখা বাংলা মদের বোতলের ছিপি খুলে ঢকঢক করে কয়েক ঢোক মদ গিললো ।
--কী আজেবাজে বকছিস? লাশের মাথায় মগজ থাকে, তুই গু পেলি কোথেকে? এতো গিলিস না! বুঝলি! বারবার বলি কাজের সময় কম গিলিস! কে শোনে কার কথা! জানিস
এটা কার লাশ? একজন বুদ্ধিজীবির,, দেশের নামকরা একজন বুদ্ধিজীবীর লাশ এটা! এই লাশের মাথা ভর্তি মগজ! উন্নত মানের মগজ! এখন বকবক থামিয়ে মন দিয়ে কাজ কর! উপরের চাপ আছে! ঠিকঠাক কাজটা কর বাপ!
ডাক্তার বাবু পাত্তাই দিল না সিবু ডোমকে।
সিবু ডোম এবার বললো,
--ও, বুইজেছি, বুইজেছি। বুদ্ধিজীবি আছে বটে লাশটা! বুদ্ধি বেচে-বেচে খেয়েছে তো জীবিতকালে! সে জন্যই সব বুদ্ধি শেষ হয়ে গেছে! আর এখন পুরো মাথায় গু ভর্তি হয়ে আছে বটে! বুঝতে পেরেছি বাবু! ঠিক আছে, বুঝতে পেরেছি!
আরো কয়েক ঢোক মদ গিলে, একটা কড়া জর্দা আর রকমারি মশলা দিয়ে বানানো একটা পান চিবোতে চিবোতে, সহজাত ভিগিতে সিবু ডোম এবার মাথার মাঝ বরাবর একটা জোর কোপ বসাতেই , লাশের মাথা হতে গড়গড় করে গড়িয়ে পড়লো নরম কিছু। সঙ্গে-সঙ্গে পুরো লাশকাটা ঘরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো ।
ডাক্তার বাবু “ওয়াক, ওয়াক” করতে-করতে এক প্রকার দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন! সিবু ডোম নিপুণ হাতে সহজাত তালে নিজ কাজ করে চলেছে- আর গুনগুন করে গাইছে, “তুমি এমনই জাল পেতেছ সংছারে....”&
মন্তব্য করুন
মন্তব্যটি পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হবে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
এখনও কোনো প্রকাশিত মন্তব্য নেই।